শরীয়তের হুকুম এর শ্রেণী বিন্যাস

শরীয়তের হুকুমকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে।

১. امر (আমর) অর্থ- আদেশ। ২. نهى (নাহয়ু) অর্থ- নিষেধ।

আদেশ কাজগুলো চার প্রকার:

১. ফরজ ২. ওয়াজিব ৩. সুন্নত ৪. নফল

১️⃣.প্রঃ ফরজ কাকে বলে?

উঃ শরিয়তের যেসব বিধান অকাট্যভাবে অবশ্যই পালনীয় তাকে ফরজ বলে।

◼️ ফরজ এর হুকুম: শরয়ি কোনো কারণ ছাড়া ইচ্ছাকৃতভাবে ফরজ ত্যাগ করা কবিরা গুনাহ। কারও যদি কোনো ফরজ আমল ছুটে যায় তাহলে সেটা কাজা করা জরুরি। কোনো ওজর ব্যতীত তা ত্যাগকারীকে ‘ফাসিক’ বলে গণ্য করা হয় এবং তার অস্বীকারকারী ‘কাফির’ বলে গণ্য হয়।

(রদ্দুল মুহতার : ১/৩৯৭, উসুলে সারখসি : ১/১১০)

2️⃣.প্রঃ ফরজ কত প্রকার ও কি কি?

উঃ ফরজ দুই প্রকার-     ১. ফরজে আইন।     ২. ফরজে কেফায়া।

3️⃣.প্রঃ ফরজে আইন কাকে বলে?

উঃ যেসব কাজ প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক বিবেকবান নারী-পুরুষ সবার ওপর সমভাবে ফরজ তাকে ফরজে আইন বলে। যেমন- নামাজ, রোজা, হজ, জাকাত, প্রয়োজন পরিমাণ জ্ঞান অর্জন করা ইত্যাদি।

4️⃣.প্রঃ ফরজে কিয়ায়া কাকে বলে?

উঃ শরিয়তের যেসব বিধান পালন করা সবার জন্য আবশ্যক নয়; বরং সমাজের কিছুসংখ্যক লোক আদায় করলে সবার পক্ষ থেকে আদায় হয়ে যায় তাকে ফরজে কিয়ায়া বলে। যেমন- জানাজার নামাজ, দ্বীনের গভীর জ্ঞান অর্জন।

◼️ ফরজে কিফায়ার হুকুম: ফরজে কিফায়া যদি কেউ আদায় না করে তা হলে সবার ফরজ তরক করার গুনাহ হবে। (জাওহিরাতুন নাইয়িরাহ : ১/৪)

5️⃣. ওয়াজিব কাকে বলে?

উঃ ইসলামি পরিভাষায় যে বিধান সুনির্ধারিত দলিল-প্রমাণের আলোকে প্রমাণিত নয়; বরং প্রবল ধারণাগত দলিলের ভিত্তিতে প্রমাণিত তাকে ওয়াজিব বলা হয়।

◼️ ওয়াজিবের হুকুম: ওয়াজিব ফরজ বিধানের মতোই অবশ্য কর্তব্য। ওয়াজিব ত্যাগকারী কবিরা গুনাহগার হিসেবে গণ্য হবে। তবে এর অস্বীকারকারী কাফের সাব্যস্ত হবে না। ওয়াজিব অস্বিকারকারী গোমরা এবং ফাসিক হয়।

যেমন- বিতরের সালাত ও দুই ঈদের সালাত ইত্যাদি। (মুজামুল ফকিহ : ৩১৯)

6️⃣.প্রঃ সুন্নাত কাকে বলে?

উঃ যেসব কাজ রাসুলুল্লাহ (সা.) এবং তাঁর সাহাবাগণ করেছেন তাকে সুন্নত বলা হয়।

7️⃣.প্রঃ সুন্নাত কত প্রকার ও কি কি?

উঃ সুন্নাত দুই প্রকার।     ১. সুন্নাতে মুয়াক্কাদা।     ২. সুন্নাতে গাইরে মুয়াক্কাদা বা সুন্নাতে যায়েদা।

8️⃣.প্রঃ সুন্নাতে মুয়াক্কাদা কাকে বলে?

উঃ যেসব কাজ রাসুলুল্লাহ (সা.) এবং তাঁর সাহাবাগণ সর্বদা পালন করতেন, অন্যদেরও পালনের তাগিদ দিতেন। যেমন- তারাবির নামাজ, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজে মোট বারো রাকাত সুন্নত ইত্যাদি।

◼️ সুন্নতে মুআক্কাদার হুকুম: সুন্নতে মুআক্কাদা ওয়াজিবের মতই। অর্থাৎ ওয়াজিবের ব্যাপারে যেমন জবাবদিহী করতে হবে, তেমনি সুন্নতে মুআক্কাদার ক্ষেত্রে জবাবদিহী করতে হবে। তবে ওয়াজিব তরককারীর জন্য সুনিশ্চিত শাস্তি পেতে হবে, আর সুন্নতে মুআক্কাদা ছেড়ে দিলে কখনো মাফ পেয়েও যেতে পারে। তবে শাস্তিও পেতে পারে। (التعريفات للجرجانى-138)

ফরজ নামাযের আগে পরের সুন্নতে মুআক্কাদার অত্যধিক গুরুত্ব দেয়া উচিত। এ কারণেই ফুক্বাহায়ে কেরাম লিখেন যে, যদি কেউ সুন্নতকে হক মনে না করে এটাকে ছেড়ে দেয়, তাহলে এ কর্ম তাকে কুফরী পর্যন্ত নিয়ে যেতে পারে।

رجل ترك سنن الصلاة ان لم ير السنن حقا فقد كفر، لأنه تركها استخفافا (رد المحتار-2/492، بدائع الصنائع- 1/644)

তবে কেউ যদি সুন্নতকে সহীহতো মনে করে, কিন্তু অলসতা করে ছেড়ে দেয়। তাহলে সে গোনাহগার হবে। (الفتاوى الهندية)

9️⃣. প্রঃ সুন্নাতে গাইরে মুয়াক্কাদা বা সুন্নাতে যায়েদা কাকে বলে?

উঃ যেসব কাজ রাসুলুল্লাহ (সা.) এবং তাঁর সাহাবাগণ মাঝেমধ্যে করতেন কিন্তু অন্যকে তা করতে তাগিদ দেননি সেগুলোকে সুন্নতে গায়রে মুয়াক্কাদা বা সুন্নতে জায়েদা বলে। যেমন- এশা ও আসরের ফরজ নামাজের আগে চার রাকাত সুন্নত, সালাতুত তাহাজ্জুদ, এশরাক ও আউয়বিনের নামাজ ইত্যাদি।

◼️ সুন্নতে গায়রে মুয়াক্কাদার হুকুম: সুন্নতে গায়রে মুয়াক্কাদা তরক করার দ্বারা কোনো গুনাহ হবে না, তবে আমল করলে সওয়াব পাওয়া যায়। (রদ্দুল মুহতার : ১/৭৭)

🔟. প্রঃ মুস্তাহাব কাকে বলে?

উঃ মুস্তাহাব : মুস্তাহাব এমন আমল যা পালন করলে সওয়াব রয়েছে কিন্তু ছেড়ে দিলে কোনো গুনাহ নেই।

উদাহরণ: জুমার দিন বেশি বেশি দরুদ পড়া, প্রতি আরবি মাসের তিন দিন রোজা রাখা, শাওয়াল মাসের ছয় রোজা ইত্যাদি।

1️⃣1️⃣. প্রঃ মাকরুহ কাকে বলে?

উঃ ইসলামি শরিয়তে যে সকল কাজ অপছন্দনীয় সাব্যস্ত হয়েছে এবং তা করতে নিষেধ করা হয়েছে তাকে মাকরুহ বলে।

1️⃣2️⃣.প্রঃ মাকরুহ কত প্রকার ও কি কি?

উঃ মাকরুহ দুই প্রকার।     ১. মাকরুহ তাহরিমি।     ২. মাকরুহ তানযিহি।

1️⃣3️⃣.প্রঃ মাকরুহে তাহরীমি কাকে বলে?

উঃ যেসব কাজ হারামের নিকটবর্তী তাকে মাকরুহ তাহরিমি বলে। যেমন- সূর্যোদয়, দ্বিপ্রহর ও সূর্যাস্তের সময় নামাজ পড়া।

1️⃣4️⃣. প্রঃ মাকরুহে তানযিহি কাকে বলে?

উঃ যে সকল কাজ হালালের নিকটবর্তী তাকে মাকরুহে তানযিহি বলে।

1️⃣5️⃣.প্রঃ মুবাহ কাকে বলে?

উঃ যে সকল কাজ সম্পাদন বা ত্যাগ করা কোনটাই ইসলামের দৃষ্টিতে নিষিদ্ধ নয় তাকে মুবাহ বলে।

 

Scroll to Top