হাদিসে বর্ণিত শবে বরাত এর আমলসমূহ
শবে বরাত কথাটি ফার্সি, এর আরবী হলো লাইলাতুল বারাআত, ‘বরাত’ শব্দের অর্থ মুক্তি এবং ‘শব’ বা লাইলাত শব্দের অর্থ রাত, অতএব ‘শবে বরাত _এর অর্থ মুক্তির রাত, এই রাতে আল্লাহ তাআলা অভাব -অনটন, রোগ -শোক ও বিপদ-আপদ থেকে মুক্তি চাওয়ার জন্য মানুষকে আহবান করেন এবং তার নিকট চাইলে তিনি এসব থেকে মুক্তি দিয়ে থাকেন।
তাই রাতকে শবে বরাত বা মুক্তির রাত বলা হয়, শাবান মাসের ১৫ তারিখ রাত অর্থাৎ ১৪ই শাবান দিবাগত রাতই হল শবেবরাত , হাদীস শরীফের আলোকে এবং ফেকাহর কিতাবে বর্ণিত তথ্য অনুযায়ী শবে বরাত উপলক্ষে পাঁচটি আমলের কথা প্রমাণিত হয়।
যথা:-
১) ১৪ই শাবান দিবাগত রাতে জাগরণ করে নফল ইবাদত বন্দেগী জিকির আজগার ও কোরআন তিলাওয়াতে লিপ্ত থাকা, এই রাতে যে কোন নফল নামাজ পড়ুন যেকোনো সূরা দিয়ে পড়তে পারেন কোন নির্দিষ্ট সূরা দিয়ে পড়া জরুরি নয়, যত রাকাত ইচ্ছা পড়তে পারেন, আরো মনে রাখবেন নফল নামাজ ঘরে পড়াই উত্তম, একান্ত যদি ঘরে নামাজ পড়ার পরিবেশ না থাকে তাহলে মসজিদে পড়তে পারেন, বর্তমানে শবে বরাত ও শবে কদর উপলক্ষে ইবাদত করার জন্য মসজিদে ভীর করার একটা রছম হয়ে গিয়েছে এর ভিত্তিতে কোন কোন মুফতি শবে বরাত ও শবে কদরে ইবাদত করার জন্য মসজিদে একত্র হওয়া মাকরুহ ও বিদআত বলেছেন, তাই যথা সম্ভব গড়েই ইবাদত করা উত্তম হবে। দেখুন-ফতোয়ায়ে মাহমুদিয়া জিলদে আউয়াল
ব্যস্ত সময়সূচির মাঝেও কিভাবে কুরআন শেখা সম্ভব?
২) এ রাতে বেশি বেশি দোয়া করা, কেননা আল্লাহ তাআলা সূর্যাস্তের পর থেকে সুবহে সাদিক পর্যন্ত দুনিয়ার আসমানে এসে মানুষকে ক্ষমা চাওয়ার জন্য, রিজিক চাওয়ার জন্য, রোগ – শোক, বিপদ – আপদ থেকে মুক্তি ও বিভিন্ন মাকসুদ চাওয়ার জন্য আহ্বান করতে থাকেন। সহিহ ইবনে হিব্বান ও তাবারানীতে বর্ণিত একটি সহিহ হাদিসে আছে এই রাতে আল্লাহ তা’আলা মুশরিক ও বিদ্বেষ্ভাবান ব্যক্তি ব্যতীত সকলকে ক্ষমা করে দেন, তদুপরি আরেক হাদিসের বর্ণনা অনুযায়ী এই রাতে মানুষের সারা বৎসরের হায়াত-মউত, রিজিক দৌলত ইত্যাদি লেখা হয়ে থাকে, অতএব এই রাতে আল্লাহর কাছে বেশি বেশি করে দোয়া করা চাই।
৩) হাদীস শরীফে বর্ণিত আছে এই রাতে নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কবরস্থানে গিয়েছিলেন এবং মৃত মুসলমানদের জন্য মাগফেরাতের দোয়া করেছিলেন, তাই এই রাতে কবর জিয়ারতে যাওয়া যায় তবে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কবরস্থানে একাকী গিয়েছিলেন, কাউকে সঙ্গে নিয়ে আড়ম্বর সহকারে যাননি, তাই এই রাতে দলবল নিয়ে সমারোহ না করে আড়ম্বরের সাথে না করে অনাড়ম্বর ভাবে কবর জিয়ারতে যাওয়া যায়।
৪) নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মৃত মুসলমানদের জন্য মাগফেরাতের দোয়া করেছিলেন, এটা ঈসালে সওয়াবের অন্তর্ভুক্ত, তাই এ রাতে মৃতদের জন্য দোয়া করা ছাড়াও অন্যান্য পদ্ধতিতেও ঈসালে ছওয়াব করার অবকাশ রয়েছে।
যেমন : কিছু দান -খয়রাত করে বা কিছু নফল ইবাদত -বন্দেগি করে তার ছওয়াব মৃতদেরকে বখশে দেয়া, এরূপ করা উত্তম হবে।
৫) পরের দিন অর্থাৎ ১৫ ই শাবান নফল রোজা রাখা উত্তম।
উপরে উল্লিখিত বিষয় ব্যতীত শবে বরাত উপলক্ষে আর বিশেষ কোন আমল কোরআন সুন্নাহ দ্বারা প্রমাণিত নয় , শবে বরাত উপলক্ষে হালুয়া রুটি তৈরি করা , মোমবাতি জ্বালানো , আতশবাজি ও ফটকা ফোটানো ইত্যাদি নিষিদ্ধ , এগুলো রছম বিদাত ও গুনাহের কাজ।



